চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় জলদস্যুতা, চুরি ও চোরাচালানের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান জোরদারের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে এক হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহিঃনোঙর এলাকায় ছিঁচকে চুরি ও চোরাচালানের ঘটনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
নিরাপত্তা উন্নতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বন্দরের কার্যক্রমে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, একই সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বন্দরের রাজস্ব আয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকায়।
কোস্ট গার্ড বলছে, বহিঃনোঙর ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ড্রোন ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে জাহাজে অবস্থানকালে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেছে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যেও দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে জলদস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে এসব ঘটনা কয়েকটি থেকে প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই উন্নতি দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক সংকেত। জাহাজ চলাচল সহজ হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও আরও গতিশীল হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি টেকসই করতে হলে সমুদ্র নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও আধুনিক করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি।

