সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে চলা বিচার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সব ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম নির্ধারিত দুই কর্মদিবসে আর চলবে না। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একটি পৃথক নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ওই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিকভাবে ব্যয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
তবে সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আইনজীবীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তারা ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থার কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বর্তমান সিদ্ধান্তে আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় বিচার ব্যবস্থায় আবারও প্রচলিত শারীরিক উপস্থিতিভিত্তিক শুনানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্চুয়াল আদালত মূলত দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হলেও বাস্তব প্রয়োগে একাধিক প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে।
আইন অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই স্থগিতাদেশ বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে আদালত পরিচালনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী নির্দেশনার দিকে, যেখানে ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থা আবার চালু হবে কি না, নাকি নতুন কাঠামোতে এর ব্যবহার সীমিত আকারে পুনর্গঠিত হবে—সেই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ বিচার ব্যবস্থার গতিপথ নির্ধারণ করবে।

