সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে নতুন রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে ওই সময়ের নীতি সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার উদ্যোগ ও দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ের সিদ্ধান্তগুলো কতটা আইনসম্মত ছিল তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এর আগে একই আইনজীবী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়া ও শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন। তবে হাইকোর্ট সেটি খারিজ করলে তিনি আপিল করেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ ঘোষণা দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরের দিন সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সংবিধানগত শূন্যতা মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে সর্বোচ্চ আদালতের মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান।
সেই প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ মত দেয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্যক্রম চালাতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করানো সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
নতুন এই রিটের মাধ্যমে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের বিস্তৃত পর্যালোচনা নিয়ে আবারও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হলো। আইনজ্ঞদের মতে, আদালত এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, তা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

