গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন চোরচক্রের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ বছরের কাছাকাছি। পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছিল। এ কারণে রাতের বেলায় অনেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকতেন। শনিবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাঘচালা এলাকার একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা গরু চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে হানা দেয়।
বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত জড়ো হয়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চক্রটির কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে স্থানীয়রা ধাওয়া করে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তালা কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ধারালো অস্ত্র ও চুরির কাজে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক প্রথমে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান। ঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন চোরদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কালিয়াকৈর থানার পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত দুজন ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় দিলেও পরে তা সঠিক নয় বলে জানা যায়। এ কারণে তাদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চুরির চেষ্টা এবং গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশে চুরি-ডাকাতির ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে গণপিটুনির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুব্ধ জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁদের মতে, অপরাধ দমনে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

