জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ধীরে ধীরে কর রেয়াত বা ট্যাক্স হলিডে সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে চায় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, করের হার কম বা বেশি যাই হোক না কেন, সবাইকে করের আওতায় আসতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস)সহ মোট ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ট্যাক্স হলিডে ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাবও বাড়ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ থাকে। কোনো একটি খাতে কর ছাড় দেওয়া হলে তারা সেই খাতেই ব্যবসা স্থানান্তর করে। এতে সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি হয় এবং ভারসাম্য নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, কর পরিশোধের পর কোনো খাতে ব্যবসা টেকসই ও লাভজনক হলে তবেই সেখানে বিনিয়োগ হওয়া উচিত। শুধু কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার বিষয়ও উঠে আসে। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ জানান, ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও আগের রিটার্নগুলো সিস্টেমে হালনাগাদ না থাকায় অনলাইনে জমা দিতে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। হালনাগাদ প্রক্রিয়াও জটিল এবং যাচাইয়ের নামে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনলাইন পদ্ধতি চালুর উদ্দেশ্যই হলো করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। তিনি জানান, পূর্বে জমা দেওয়া ম্যানুয়াল রিটার্ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করদাতাদের নিজ উদ্যোগে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, কোথায় কত রিটার্ন আটকে আছে এবং কী কারণে ঝুলে আছে, তা দ্রুত প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ডেকে সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
৩১ মার্চের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যেসব রিটার্ন নিষ্পত্তিহীন রয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। করদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো খোলামেলা তুলে ধরলে সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ভ্যাট ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কয়েকটি সংগঠন শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও তুলে ধরে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), অ্যাক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিএমইএবি) এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) উল্লেখযোগ্য।

