রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের জন্য সংযমী ও ব্যয়সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন ফাহমিদা খাতুন, যিনি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর নির্বাহী পরিচালক। তার মতে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না আনলে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হলে তা মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের ওপর কর হ্রাস বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও প্রকৃত উপকার পেতে হলে উপকারভোগী নির্বাচন ও তদারকিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে এই খাতে অনিয়মের অভিজ্ঞতা থাকায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ভর্তুকি নীতির ক্ষেত্রেও তিনি লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, কৃষি, সেচ এবং গণপরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভর্তুকি দিলে তা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক খাতের চাপের প্রেক্ষাপটে একটি সংযমী বাজেট এখন সময়ের দাবি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর রাজস্ব আহরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা—এই তিনটির সমন্বয়েই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

