পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন করে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। পরিবারে বাড়তি খরচ, কোরবানির প্রস্তুতি এবং স্বজনদের সহায়তায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠানো শুরু করায় এপ্রিল মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। রোববার এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনা, পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং উৎসবকেন্দ্রিক প্রস্তুতির কারণে দেশে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। ফেব্রুয়ারিতে এই অঙ্ক ছিল ৩০২ কোটি ডলার বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৯৩৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ৪৫৪ কোটি মার্কিন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দেওয়া, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে প্রবাসী আয় এখনো বড় ভরসা হয়ে আছে।

