Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মে 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ২৩৭% কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সত্ত্বেও নীতিগত শূন্যতায় সংকটে সৃজনশীল অর্থনীতি
    অর্থনীতি

    ২৩৭% কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সত্ত্বেও নীতিগত শূন্যতায় সংকটে সৃজনশীল অর্থনীতি

    নিউজ ডেস্কমে 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশে সৃজনশীল অর্থনীতি, যাকে ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ বলা হয়, দ্রুত প্রসারিত হলেও নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারে এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এই খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতির গতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবুও এটিকে এখনো মূলত ‘সংস্কৃতি’ খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে, ‘বাণিজ্যিক’ সম্ভাবনার দিকটি থেকে নয়—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে এই খাত দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি অবদান রেখেছে। অর্থনীতিতে এমন শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নীতিগত স্বীকৃতি ও সহায়তার অভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর তথ্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। শিল্প, বিনোদন ও অবকাশ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ সালের ৩৩ হাজার ৪৪১ জন থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৯ জনে পৌঁছেছে। এক দশকে এই বৃদ্ধি ২৩৭ শতাংশ, যা এই খাতের সম্ভাবনা ও গতিশীলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

    তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, কোনো সুসংহত সরকারি নীতি বা কাঠামোগত সহায়তা ছাড়াই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাজারের চাহিদা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং ফ্রিল্যান্সভিত্তিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণই এই খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—দ্রুত বাড়তে থাকা এই খাতকে কি এখনো কেবল সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হবে, নাকি এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে?

    দ্রুত প্রবৃদ্ধি, তবু অর্থনীতিতে কম অংশ:

    বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর অংশ এখনো খুবই সীমিত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য বলছে, এই খাতের প্রবৃদ্ধি জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হলেও মোট অর্থনীতিতে এর অংশ নগণ্যই রয়ে গেছে।

    সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৫.৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে জাতীয় নামিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এই খাত দেশের গড় অর্থনৈতিক প্রবণতাকে ছাড়িয়ে গেছে। খাতভিত্তিক তুলনাতেও সৃজনশীল অর্থনীতির অগ্রগতি স্পষ্ট। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ১২.৮ শতাংশ, শিল্পে ১০ শতাংশ এবং সেবায় ১১.৮ শতাংশ। এসব খাতের তুলনায় সৃজনশীল অর্থনীতি দ্রুততর গতিতে এগোচ্ছে।

    তবে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পরও একটি বড় সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। প্রায় ৫৫ লাখ কোটি টাকার অর্থনীতিতে এই খাতের অংশ মাত্র ০.১৭ শতাংশ। প্রথাগত খাতগুলোর তুলনায় এটি অত্যন্ত কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও নীতিগত স্বীকৃতির অভাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি দুর্বলতা তুলে ধরে।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের নীতিমালায় তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও কৃষিখাতই প্রধান অগ্রাধিকার পেয়েছে। ফলে সৃজনশীল অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই খাতের গুরুত্ব নিয়ে আর কোনো দ্বিধার অবকাশ নেই। বরং প্রশ্ন এখন, কেন এটি এখনো সুস্পষ্ট নীতিগত কাঠামো বা ‘পলিসি অ্যাঙ্কর’ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

    নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক সাকিব বিন আমিনের মতে, দেশের সৃজনশীল শিল্প এখনো মূলত অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাস্তবে এই খাতের পেশাজীবীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন বা পেশাগত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

    তার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সংগীতশিল্পীদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই এই পেশাকে পূর্ণকালীনভাবে গ্রহণ করতে পারছেন। অধিকাংশের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবেই রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত আয় ও স্থিতিশীলতার অভাবে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন বা বিদেশমুখী হচ্ছেন।

    এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি জোর দেন সুস্পষ্ট নীতিমালার ওপর। তার মতে, সৃজনশীল খাতকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মীদের জাতীয় পেনশনসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গ্রামীণ অঞ্চল ও নারী সৃজনশীল কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও বিস্তৃত ও টেকসই রূপ নিতে পারে।

    ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ কী?

    ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ শব্দটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ের মাধ্যমে। ফিলিপ বুইট্রাগো ও ইভান ডুকে রচিত The Orange Economy: An Infinite Opportunity গ্রন্থে এই ধারণার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এতে শিল্পকলা, কারুশিল্প, চলচ্চিত্র, ফ্যাশন, সংগীত, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে শুরু করে ভিডিও গেম—সব ধরনের সৃজনশীল শিল্পকে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক পরিসরের মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই খাত এখন কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

    তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ এখনো দেখা যায়নি। এখানে শিল্পী, ডিজাইনার, ফ্রিল্যান্সার, ক্রীড়াবিদ বা গল্পকারদের বেশিরভাগ সময়েই সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক অবদানের দিকটি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত থেকে যায়। এর ফলে দ্রুত প্রসারমান এই খাতটি এখনো মূল নীতিগত কাঠামোর বাইরে অবস্থান করছে।

    দেশের সামাজিক বাস্তবতাও এই চিত্রকে প্রভাবিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করা হয়েছে—শিক্ষা গ্রহণ, এরপর একটি স্থায়ী বা প্রথাগত পেশায় প্রবেশ, এবং শেষে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন। এই কাঠামোর মধ্যে সৃজনশীল পেশাগুলো খুব কমই গুরুত্ব পেয়েছে। এর পেছনে প্রতিভার অভাব নয়, বরং নীতিগত প্রণোদনা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ঘাটতিই বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) প্রকাশিত ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক ২০২৪’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল শিল্পের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে এই খাত জিডিপির ০.৫ শতাংশ থেকে ৭.৩ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখছে। একইসঙ্গে মোট কর্মসংস্থানের ০.৫ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত এই খাত দখল করে আছে।

    প্রতিবেদনে আঙ্কটাডের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান উল্লেখ করেন, সৃজনশীল অর্থনীতি এখন অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, এটি কেবল শিল্প বা সংস্কৃতির বিষয় নয়; বরং একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে ব্যাপক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

    সীমিত বরাদ্দে থমকে সৃজনশীল অর্থনীতি:

    বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বাজেট বিশ্লেষণে একটি ধারাবাহিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি মন্ত্রণালয়—সংস্কৃতি বিষয়ক, তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুব ও ক্রীড়া—গত প্রায় দুই দশক ধরে মোট উন্নয়ন বাজেটের ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ পেয়ে আসছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই তিন মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উন্নয়ন বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে এর অংশ মাত্র ০.৮১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এই হার ছিল ০.৭২ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই দশকে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ৯ বেসিস পয়েন্ট। এই সময়ের মধ্যে দেশে সৃজনশীল জনশক্তি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও বরাদ্দের এই সীমাবদ্ধতা খাতটির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

    অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ে শিক্ষাখাত বরাবরই অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন ও ঋণের সুদ পরিশোধের পরই শিক্ষাখাতের অবস্থান। তবে এই বড় বিনিয়োগের সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির কার্যকর সংযোগ এখনো গড়ে ওঠেনি।

    সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু সংস্কৃতি বা বিনোদন খাতের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এর ভিত্তি তৈরি করতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতর থেকেই। অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ নয়, বরং ব্যয়ের ধরন পরিবর্তন জরুরি। সৃজনশীলতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতার সঙ্গে শিক্ষার আধুনিক সমন্বয় ঘটানো গেলে এই খাতে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব।

    আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সৃজনশীল অর্থনীতিতে পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেশী ভারত ইতোমধ্যেই এই খাতকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি নিজেদের বৈশ্বিক ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটে দেশজুড়ে ১৫ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০টি কলেজে ‘এভিজিসি’ (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিকস) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস-কে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিলে গঠিত ‘এভিজিসি প্রমোশন টাস্কফোর্স’ দীর্ঘ সময় ধরে একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়নে কাজ করেছে।

    প্রতিটি দেশই নির্দিষ্ট কিছু খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করে। ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে সেই পথ নির্ধারণ করেছিল, যা সময়োপযোগী ছিল। তবে বর্তমানে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে এসে এখনো একই খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, প্রমাণিত সম্ভাবনাময় সৃজনশীল অর্থনীতি এখনো সুস্পষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি নিবেদিত টাস্কফোর্স গঠন এবং জাতীয় পর্যায়ে সৃজনশীল অর্থনীতি কৌশল প্রণয়নকে সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ ঘিরে নতুন করে আশার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। নবনির্বাচিত সরকার সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করার কিছু প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছে, যা খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

    ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। গত ২ মে দেশজুড়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে একটি তৃণমূলভিত্তিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা।

    ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—এই খাতের অবদান জিডিপির ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা, ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তহবিল গঠন।

    ইশতেহারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতা বিকাশের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ক্রীড়া, জাতীয় সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে এই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিসংখ্যানগত অগ্রগতি, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বাজারভিত্তিক প্রবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকার গ্রামীণ কুটির শিল্প, কারুশিল্প এবং অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতির অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীত খাতকে অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন—যেগুলো এতদিন নীতিগতভাবে উপেক্ষিত ছিল।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    সরকারের প্রতিশ্রুতিতে এডিবির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে

    মে 6, 2026
    অর্থনীতি

    দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার প্রতিবন্ধকতাসমূহ

    মে 6, 2026
    আইন আদালত

    ন্যায়বিচার কি কেবল একটি প্রতিশ্রুতি?

    মে 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.