দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে। মার্চ পর্যন্ত সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এক বিলিয়ন ডলারের কিছুটা বেশি হলেও তা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১.০৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১.৩১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরো নয় মাসের পতনের বড় অংশই এসেছে সর্বশেষ জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক থেকে। এই তিন মাসে নিট এফডিআই এসেছে মাত্র ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৭৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে বিনিয়োগ প্রবাহে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
তবে এর আগের অর্থবছরে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৭১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা তার আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। আর ২০২৩–২৪ অর্থবছরে নিট এফডিআই ছিল ১৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে যে মোট বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তার মধ্য থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা বা আয় নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অংশকে নিট এফডিআই হিসেবে গণনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
অর্থবছরের হিসাবে পতন দেখা গেলেও পঞ্জিকা বছরের হিসাবে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি–ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৭ কোটি ৩ লাখ ডলার। এ হিসেবে এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৫০ কোটি ডলারের কিছু বেশি, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।এর আগে ২০২৩ সালে নিট এফডিআই ছিল ১৪৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

