মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অভ্যন্তরেও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান-এ অন্তত ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং চার হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ-এর মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর থেকেই ইরানে দমন-পীড়ন বেড়েছে। ওই সময়ের পর অন্তত ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এছাড়া আরও ১০ জনকে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এবং ২ জনকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করার অভিযোগে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা আরও জানিয়েছে, আটক অনেক ব্যক্তিই গুম, নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইরানের জনগণের মৌলিক অধিকার যেভাবে সীমিত করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি ইরান সরকারকে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার, এই প্রথা স্থগিত রাখার এবং সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিতেও গভীর ছাপ ফেলছে।
সিভি/এইচএম

