মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও সরাসরি সামরিক হামলার পথ থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নৌ-অবরোধ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে মিত্র দেশগুলোকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি যুদ্ধ না বাড়িয়ে ইরান-এর অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল রপ্তানির ওপর চাপ ধরে রাখা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের চলাচল আরও সীমিত করা হতে পারে, যা দেশটির বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসকে প্রভাবিত করবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প চান তেহরান অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখুক। এই দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেননি তিনি। তার মতে, বিকল্প কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে অবরোধ চালিয়ে যাওয়া কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে, ইরানও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগে তাদের নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ প্রয়োজন। ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও এখন বেশ জটিল ও সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনায় আলোচনা এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তিনি কৌশল নির্ধারণ ও কূটনৈতিক যোগাযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে এসেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ কৌশল আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরির পরিকল্পনা, যা সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা। তবে এই নীতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সমর্থন, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং ইরানের পাল্টা কৌশলের ওপর।

