ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে জয়ের দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিরঙ্কুশভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং সামরিক দিক থেকে তারা সফলতা অর্জন করছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। শুনানিতে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—যুক্তরাষ্ট্র কি এই যুদ্ধে জিতছে? জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “অবশ্যই।”
হেগসেথ বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সামরিক প্রস্তুতি ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধের প্রতিটি ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে এবং তা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।
শুনানিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে আসে। প্রশ্ন ছিল, এই সংঘাত শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র কি সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়েছিল? এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পেন্টাগন আগেই পরিস্থিতির সব দিক বিশ্লেষণ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকির জন্যও প্রস্তুতি ছিল।
তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে শুধুমাত্র সামরিক লড়াই হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহৎ কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি আরও জটিল। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র জয়ের দাবি করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান এবং চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান যুদ্ধের গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

