ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণে দেখা গেল ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা। দিন শেষে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯০.৩৪ শতাংশ। সাত জেলার ১৪২টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৯।
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। প্রথম দুই ঘণ্টাতেই ভোটের হার দাঁড়ায় ১৮.৩৯ শতাংশ। এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের গতি দ্রুত বাড়তে থাকে। বেলা ১১টার মধ্যে তা প্রায় ৪০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলে এবং দুপুরের পর একাধিক কেন্দ্রে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। গলসি ও মন্তেশ্বর আসনে শুরু থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে মহেশতলায় তুলনামূলকভাবে ভোটের হার কিছুটা কম ছিল।
বেলা ৩টা নাগাদ ভোটের হার পৌঁছে যায় ৭৮.৬৮ শতাংশে, যা প্রথম দফার প্রায় সমান। দিন শেষে তা আরও বেড়ে ৯০ শতাংশ অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ ভোটার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।
তবে ভোটের এই উচ্চ হার যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি দিনজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপও ছিল তীব্র। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নারীদের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠে আসে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই পরিস্থিতি তার পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে সহায়ক হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আবার অভিযোগ করা হয়, ভোটারদের প্রভাবিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভোট চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের খবর পাওয়া গেলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল এবং অধিকাংশ জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরেছে, তেমনি রাজনৈতিক উত্তেজনাও এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকে স্পষ্ট করেছে। এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সিভি/এইচএম

