Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, এপ্রিল 30, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরানের পাহাড়ি টানেলে ১১ টন ইউরেনিয়ামের রহস্য
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের পাহাড়ি টানেলে ১১ টন ইউরেনিয়ামের রহস্য

    নিউজ ডেস্কUpdated:এপ্রিল 30, 2026এপ্রিল 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বহু বছরের পুরোনো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—তেহরানের হাতে থাকা প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আসলে কোথায় আছে?

    আট বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। সেই সিদ্ধান্তের পর তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুত বাড়ানোর পথে এগোয়। এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, গোয়েন্দা সংস্থা ও পরমাণু বিশেষজ্ঞদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিশাল মজুত। কারণ, এই উপাদান যদি আরও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা যায়, তাহলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকিকে অনেক বেশি বাস্তব করে তুলতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। তাদের যুক্তি ছিল, ইরান যেন এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে। কিন্তু হামলা শুরুর প্রায় দুই মাস পরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর স্পষ্ট হয়নি—ইরানের সেই ইউরেনিয়াম মজুতের বড় অংশ কোথায় আছে, এবং তা কতটা নিরাপদ বা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে?

    জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রসির ধারণা, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ সম্ভবত ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সে রয়েছে। তবে এই ধারণা নিশ্চিত তথ্য নয়। কারণ, ইরান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষে স্থলভিত্তিক যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    কেন ইউরেনিয়ামের মাত্রা এত গুরুত্বপূর্ণ

    ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুধু পরিমাণের বিষয় নয়; এর বিশুদ্ধতার মাত্রাও বড় বিষয়। শূন্য থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু একবার ২০ শতাংশে পৌঁছে গেলে ৬০ শতাংশ কিংবা ৯০ শতাংশে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যায়।

    ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রা হিসেবে বিবেচিত। তাই ২০ শতাংশকে অনেক বিশেষজ্ঞ বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের সীমারেখা হিসেবে দেখেন। কারণ, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ মানে একটি পারমাণবিক বোমার জ্বালানি তৈরির পথে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া।

    এই কারণেই ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে এত উদ্বেগ। আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে এই পরিমাণ উপাদান দিয়ে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সম্ভাবনার কথা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকা আর কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা এক জিনিস নয়। অস্ত্র বানাতে আরও প্রযুক্তি, নকশা, পরীক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র বা বহনব্যবস্থা এবং নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, ইউরেনিয়াম থাকলেও ইরান তাৎক্ষণিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেয়ে যাবে—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

    ২০০৬ থেকে ২০২৫: কীভাবে মজুত বাড়ল

    ইরান ২০০৬ সালে শিল্পপর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। তেহরান তখন থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, পরবর্তী বছরগুলোতে ইরানের মজুত দ্রুত বাড়তে থাকে।

    ২০১০ সালে ইরান ঘোষণা করে, তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। তাদের দাবি ছিল, এটি গবেষণা রিয়্যাক্টরের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘোষণা উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, ২০ শতাংশে পৌঁছে গেলে আরও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণের পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যায়।

    ২০১৫ সালে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশের সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি হয়। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের মধ্যে রাখবে এবং মোট মজুত ৬৬০ পাউন্ডের নিচে রাখবে। চুক্তির অধীনে ইরান ২৫ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ১২ টন ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠায়।

    এই চুক্তি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা কমিয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। ইরান ধীরে ধীরে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ বাড়াতে শুরু করে। শুরুতে মাত্রা কম ছিল, কিন্তু ২০২১ সালের শুরুতে তেহরান আবার ২০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।

    বাইডেন প্রশাসন পরে চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। এ সময় ইরান সমৃদ্ধকরণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যায়। এই মাত্রা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি বলে বিবেচিত।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত দ্রুত বাড়তে থাকে। আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইতিহাসের দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই পর্যায়েই পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েলের উদ্বেগ নতুন মাত্রা পায়।

    যুদ্ধ, হামলা ও পরিদর্শন বন্ধের প্রভাব

    ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদোর সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ইসফাহানের ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ টানেলে বোমা হামলা চালায়। হামলার এক মাস পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকেরা আর আগের মতো পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।

    এখান থেকেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। কারণ, হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, কোন স্থাপনায় কী অবশিষ্ট আছে, কত ইউরেনিয়াম ধ্বংস হয়েছে, আর কতটা সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ হয়তো যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। যদি তা সত্য হয়, তাহলে সেগুলো উদ্ধার করা শুধু কঠিন নয়, বিপজ্জনকও হতে পারে। আবার ইরান যদি সেই উপাদান উদ্ধার করতেও পারে, তা থেকে যুদ্ধাস্ত্র তৈরির উপযোগী ব্যবস্থা গড়তে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো মাটির গভীরে থাকা এই ইউরেনিয়ামের ওপর নজর রাখছে। তাদের বক্তব্য হলো, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এই মজুত এখন তেহরানের খুব বেশি কাজে লাগবে না। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনই ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী পাঠাতে আগ্রহী নন।

    ইসফাহান কেন আলোচনার কেন্দ্রে

    রাফায়েল গ্রসি গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অধিকাংশ উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্ভবত ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সেই রয়েছে। এই স্থাপনাটি ২০২৫ সালের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধ শুরুর আগে ইসফাহানের নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারের একটি টানেলে ১৮টি নীল কনটেইনারবাহী ট্রাক ঢুকেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই কনটেইনারগুলোতে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল এবং সেগুলো এখনো সেখানেই থাকতে পারে।

    তবে শুধু ইসফাহান নয়, নাতাঞ্জ স্থাপনাতেও অজানা পরিমাণ ইউরেনিয়াম থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন রাফায়েল গ্রসি। অর্থাৎ ইরানের মজুত এক জায়গায় নয়, একাধিক স্থানে ছড়িয়ে থাকতে পারে। এটিই বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ইসফাহান শহরের কাছে জাগ্রোস পর্বতমালার ভেতরের একটি স্থাপনায় ইউরেনিয়ামের মজুত রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের হামলার পর ওই স্থাপনাকে আরও সুরক্ষিত করেছে ইরান। তবে আরেকটি জল্পনাও রয়েছে—সিআইএ ও মোসাদের এজেন্টদের বিভ্রান্ত করতে ইরান ওই স্থাপনার প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত বা পরিবর্তন করে থাকতে পারে।

    এই পর্যায়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিশ্চিত তথ্যের অভাব। স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য চিত্র তৈরি করা যায়, কিন্তু মাটির নিচের টানেল বা সংরক্ষণাগারের প্রকৃত অবস্থা নির্ভুলভাবে জানা কঠিন।

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বেড়েছে ইরানে।

    ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্রের খুব কাছে

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্থাপনা ধ্বংস করলেই সেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। কারণ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যদি অক্ষত থাকে এবং ইরান যদি তা পুনরুদ্ধার বা গোপন স্থাপনায় স্থানান্তর করতে পারে, তাহলে ঝুঁকি থেকেই যায়।

    পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ডেভিড অ্যালব্রাইট মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এই উপাদানগুলো জব্দ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, ছোট একটি গোপন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে অস্ত্র তৈরির মানের ইউরেনিয়াম প্রস্তুত করা সম্ভব হতে পারে।

    তিনি ইরানের বহু বছরের প্রস্তুতি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরির সক্ষমতাকে এমন এক সঞ্চয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা প্রয়োজনের সময় দ্রুত কাজে লাগানো যায়। এই তুলনার অর্থ হলো, তেহরান হয়তো এখনো অস্ত্র তৈরি করেনি, কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা জমা করে রেখেছে।

    তবে একই সঙ্গে সতর্ক থাকা জরুরি—বিশেষজ্ঞদের সবাই একমত নন যে ইরান তাৎক্ষণিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। কেউ কেউ বলছেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় ইরান সরাসরি পারমাণবিক হুমকি ছিল না, কারণ কার্যকর অস্ত্র তৈরির পথ তখনও বহু বছর দূরে ছিল। এই মতভেদই ইরান ইস্যুকে আরও জটিল করে তোলে।

    উদ্ধার করা কেন এত কঠিন

    ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়ামের অবস্থান জেনে গেল। তবু সেটি উদ্ধার করা সহজ হবে না। কারণ, এই ধরনের উপাদান গভীর টানেল, পাহাড়ি স্থাপনা বা ক্ষতিগ্রস্ত সংরক্ষণাগারে থাকলে সেখানে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হলে বড় ধরনের রাসায়নিক, লজিস্টিক ও সামরিক প্রস্তুতি দরকার হবে। শুধু সৈন্য পাঠালেই হবে না; প্রয়োজন হবে বিকিরণ নিরাপত্তা, উপাদান শনাক্তকরণ, স্থানান্তর ব্যবস্থা, পথনিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ইরানি প্রতিরোধ মোকাবিলার সক্ষমতা। এই কারণে ট্রাম্প প্রশাসন এখনই বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    আরেকটি বিষয় হলো, মজুত যদি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকে, তাহলে সেটি উদ্ধার করতে গিয়ে নতুন বিপদ তৈরি হতে পারে। বিকিরণ ঝুঁকি, রাসায়নিক দূষণ এবং সামরিক সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে এমন অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠবে।

    সামনে কি নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

    ডেভিড অ্যালব্রাইট সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি পরে জানতে পারে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, তাহলে নতুন সংঘাত এড়ানো কঠিন হবে।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ ম্যাথু বান মনে করেন, ইউরেনিয়াম মজুতের সন্ধান পাওয়া গেলে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে ইরান সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা অত্যন্ত কঠিন করে তুলতে পারে।

    এই পর্যায়ে কূটনীতির পথও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরান যদি মনে করে তার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে তেহরান আরও গোপনীয়তার পথে যেতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো যদি মনে করে ইরান মজুত লুকিয়ে রাখছে, তাহলে সামরিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

    মূল সংকট কোথায়

    ইরান ইস্যুর কেন্দ্রীয় সংকট এখন তিনটি প্রশ্নে আটকে আছে।

    প্রথমত, ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঠিক অবস্থান কোথায়?
    দ্বিতীয়ত, এর কতটা ৬০ শতাংশ বা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ অবস্থায় আছে?
    তৃতীয়ত, ইরান কি এই মজুত ব্যবহার করে গোপনে অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারবে?

    এই প্রশ্নগুলোর নির্ভরযোগ্য উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সংকট কমবে না। স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সাময়িকভাবে সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কিন্তু উপাদান, প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক ইচ্ছা যদি রয়ে যায়, তাহলে সমস্যা নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এখন শুধু প্রযুক্তিগত ইস্যু নয়; এটি সামরিক, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। ইসফাহানের টানেল, নাতাঞ্জের সম্ভাব্য মজুত, ১৮টি নীল কনটেইনারবাহী ট্রাক, ৯৭০ পাউন্ড ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—সবকিছু মিলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

    শেষ পর্যন্ত এই সংকটের সমাধান নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, পরিদর্শন, কূটনৈতিক চাপ এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের ওপর। কিন্তু আপাতত সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ঘিরে রহস্য এখনো কাটেনি, আর সেই রহস্যই পরবর্তী বড় সংঘাতের ঝুঁকিকে জীবিত রাখছে।

     

    সিভি/এইচএম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ

    এপ্রিল 30, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিল 30, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, শর্তে অনড় ট্রাম্প

    এপ্রিল 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.