আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক এক টেলিফোন আলাপে পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এটি বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতিতে একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ হতে পারে।
তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সরাসরি গ্রহণ করেননি। বরং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে কোনো সহযোগিতা নেওয়ার আগে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান তিনি। অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুই অঞ্চলের সংকটকে একই কূটনৈতিক ফ্রেমে এনে সমাধানের চেষ্টা করছেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, পুতিনের সঙ্গে তার আলাপ “খুবই ফলপ্রসূ” ছিল এবং ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান তুলনামূলক দ্রুতই সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, রাশিয়া যদি ইরানের ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা পারমাণবিক ঝুঁকি কমাতে কার্যকর হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আদলেও এমন একটি প্রস্তাব উঠেছিল, যেখানে তৃতীয় কোনো দেশের কাছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল। এবার সেই পুরোনো ধারণাই নতুন প্রেক্ষাপটে আবার সামনে এসেছে।
বর্তমানে ইরান-এর পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশল আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা। একদিকে রাশিয়ার সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা, অন্যদিকে সেই সহযোগিতার বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর। কারণ বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্তই একাধিক ফ্রন্টে প্রভাব ফেলছে—যেখানে একটি সমাধান অন্য আরেকটি সংকটকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে।
সিভি/এইচএম

