ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক আবারও অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্যে মিত্রতার কথা বলা হলেও ভেতরে ভেতরে ওয়াশিংটন ও কয়েকটি ইউরোপীয় রাজধানীর মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। সেই টানাপোড়েনের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪৮ ঘণ্টায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। শুনতে এটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি সরল ঘোষণা মনে হলেও বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। কারণ ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি শুধু ইউরোপের নিরাপত্তার সঙ্গে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
ট্রাম্পের এই হুমকির পেছনে তাৎক্ষণিক কারণ হলো ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র “অপমানিত” হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সংঘাত শেষ করার মতো ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো সত্যিকারের বিশ্বাসযোগ্য কৌশল নেই। সোমবার জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ জার্মানির জন্যও বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে এবং জার্মান অর্থনীতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ম্যার্ৎসকে আক্রমণ করে বলেন, জার্মান নেতা যেন মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে। এর পরের দিন ট্রাম্প জানান, জার্মানিতে থাকা মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনা করছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর কথা ভাবছেন কি না, ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত ভাবছেন। তাঁর অভিযোগ, ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না এবং স্পেনের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক। অর্থাৎ সেনা উপস্থিতির প্রশ্নটি এখন শুধু সামরিক হিসাব নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্য, যুদ্ধ সমর্থন এবং কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরানো মুখে বলার মতো সহজ নয়। জার্মানি, ইতালি ও স্পেন মিলিয়ে প্রায় ৫৩,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। শুধু এই তিন দেশ নয়, ইউরোপজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের এবং বিস্তৃত। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা জনবল তথ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সামরিক সদস্য ছিল প্রায় ৬৮,০৬৪ জন।
এই সেনারা ইউরোপজুড়ে ৩১টি স্থায়ী ঘাঁটি এবং ১৯টি সামরিক স্থাপনায় ছড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সামরিক কার্যক্রম ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হয়। এখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, মেরিন, বিশেষ অভিযান বাহিনী এবং নতুন মহাকাশ বাহিনীর মতো বিভিন্ন অংশ যুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো একটি দেশ থেকে সেনা কমানো মানে শুধু একটি ঘাঁটি বন্ধ করা নয়; পুরো সামরিক নেটওয়ার্কের ভারসাম্য নতুন করে সাজানো।
জার্মানি এই কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি হলো জার্মানির রামস্টাইন বিমানঘাঁটি, যেখানে ১৯৫২ সাল থেকে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে পাঁচটি গ্যারিসনে ৩৬,৪৩৬ জন সক্রিয় মার্কিন সেনা ছিল। রামস্টাইন শুধু ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১০,১৫৬ জন মার্কিন সামরিক সদস্য ছিল, যাঁরা মূলত তিনটি ঘাঁটিতে অবস্থান করেন এবং তাঁদের বড় অংশ বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। ইতালিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মার্কিন বাহিনী আছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ইতালির ভিচেনজা, আভিয়ানো, নেপলস ও সিসিলির ঘাঁটিতে ১২,৬৬২ জন সক্রিয় মার্কিন সেনা ছিল। স্পেনে জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে মার্কিন নৌ ও বিমানঘাঁটি রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ীভাবে নিয়োজিত ছিল ৩,৮১৪ জন।
পূর্ব ইউরোপেও যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পোল্যান্ডে স্থায়ীভাবে ৩৬৯ জন সক্রিয় মার্কিন সেনা থাকলেও সেখানে আরও প্রায় ১০,০০০ ঘূর্ণায়মান বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনী ইউরোপীয় প্রতিরোধ উদ্যোগের আওতায় ন্যাটোর রাশিয়ামুখী পূর্ব ফ্ল্যাংক শক্তিশালী করার কাজে যুক্ত। রোমানিয়ায় স্থায়ীভাবে ১৫৩ জন মার্কিন সেনা আছে, তবে সেখানেও ঘূর্ণায়মান উপস্থিতি রয়েছে। মিহাইল কোগালনিচেয়ানু বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প তুরজি এবং দেভেসেলুর মতো স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার আছে। হাঙ্গেরিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৭ জন স্থায়ী মার্কিন সামরিক সদস্য ছিল, যারা কেচকেমেত ও পাপা বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে।
এই সংখ্যাগুলো দেখায়, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নয়। এটি বহু দশক ধরে তৈরি হওয়া এক সামরিক স্থাপত্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুরু হলেও শীতল যুদ্ধের সময় এর চরিত্র বদলে যায়। তখন লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব ঘাঁটির কাজ শুধু ইউরোপ রক্ষা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক অভিযানের কেন্দ্রীয় অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
ইরাক, আফগানিস্তান এবং এখন ইরান—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রামস্টাইন বিমানঘাঁটির কাছেই রয়েছে ল্যান্ডস্টুহল আঞ্চলিক চিকিৎসাকেন্দ্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন হাসপাতাল। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় আহত বা অসুস্থ মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়ার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। তাই জার্মানি থেকে সেনা কমানো মানে শুধু কয়েক হাজার সেনা কমানো নয়; এর সঙ্গে চিকিৎসা, সরবরাহ, বিমান পরিবহন, গোয়েন্দা সহায়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের পুরো ব্যবস্থাও জড়িয়ে আছে।
এখানে আরেকটি বড় বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো। সাধারণত প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপে কত সেনা থাকবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কংগ্রেস চাইলে আইন ও অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বড় সেনা প্রত্যাহার আটকে দিতে বা কঠিন করে তুলতে পারে। ২০২০ সালে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে জার্মানি থেকে প্রায় ১২,০০০ সেনা সরানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তিনি বার্লিনের কম প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইনকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস আপত্তি জানায় এবং পরে জো বাইডেন সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন।
এবারও একই ধরনের আইনি বাধা সামনে আসতে পারে। ২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে এমন একটি ধারা রয়েছে, যেখানে ইউরোপে মার্কিন সেনার সংখ্যা স্থায়ীভাবে ৭৫,০০০-এর নিচে নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প চাইলেই দ্রুত এবং একক সিদ্ধান্তে ইউরোপ থেকে বড় মাত্রায় সেনা প্রত্যাহার করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে।
তবে ট্রাম্পের হুমকিকে পুরোপুরি অবাস্তব বলাও ঠিক হবে না। তিনি বারবার দেখিয়েছেন, সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে তিনি কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তাঁর মতে, ইউরোপীয় মিত্ররা যদি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি বা কৌশলগত অবস্থানকে সমর্থন না করে, তাহলে তাদের মাটিতে মার্কিন সেনা রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর প্রচলিত ঐক্য ধারণাকে দুর্বল করতে পারে।
ইরান যুদ্ধ এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত। হরমুজ প্রণালি কার্যত ইরানের বিধিনিষেধ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের চাপে বাধাগ্রস্ত। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য বুঝতে পারছেন, কারণ সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি দাম এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ট্রাম্প শুধু জার্মানিকে নয়, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকেও সমালোচনা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহায়তা করেননি বলে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর স্টারমার যখন ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হননি, তখন ট্রাম্প তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি উইনস্টন চার্চিল নন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও একসময় ট্রাম্পের পছন্দের ইউরোপীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর সমালোচনার পর তিনিও ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে পড়েন।
এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে ট্রাম্পের আগ্রহ এবং ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তও আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। তাই বর্তমান সেনা প্রত্যাহারের হুমকি আসলে বড় একটি ধারাবাহিকতার অংশ। এটি শুধু ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার বিনিময়ে ইউরোপের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্য আদায়ের এক ধরনের কৌশল।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরানো হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে রাশিয়া। কারণ ন্যাটোর পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে শুধু প্রতীকী নিরাপত্তা নয়, বাস্তব প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা হিসেবে দেখে। এই উপস্থিতি কমে গেলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশ এখনো প্রতিরক্ষা ব্যয়, অস্ত্র উৎপাদন, সামরিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ঘাটতিতে ভুগছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সেনা প্রত্যাহার সহজ লাভের বিষয় নয়। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপে দ্রুত সামরিক সাড়া দেওয়ার সুযোগ দেয়। এগুলো হারালে বা কমালে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত সুবিধাও কমে যাবে। তাই ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিজের সামরিক পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর হুমকি একদিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ভাষা, অন্যদিকে এটি আটলান্টিক জোটের ভেতরের গভীর অনিশ্চয়তাকে প্রকাশ করছে। ইউরোপ এখন বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি আর আগের মতো নিঃশর্ত নয়। আর যুক্তরাষ্ট্রও দেখাচ্ছে, তার সামরিক উপস্থিতি শুধু মিত্রতার নিদর্শন নয়; এটি রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের হাতিয়ারও হতে পারে।
তাই জার্মানি, ইতালি বা স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নটি শুধু সেনা সংখ্যা কমানো বা ঘাঁটি সরানোর বিষয় নয়। এটি ইউরোপের নিরাপত্তা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব এবং ইরান যুদ্ধকে ঘিরে নতুন বিশ্বরাজনীতির একটি বড় পরীক্ষা। ট্রাম্প হয়তো হুমকি দিয়ে ইউরোপকে চাপ দিতে চাইছেন, কিন্তু সেই হুমকি বাস্তবায়ন করতে গেলে তাঁকেও কংগ্রেস, সামরিক অবকাঠামো, ন্যাটো কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বৈশ্বিক স্বার্থের কঠিন দেয়ালের মুখোমুখি হতে হবে।

