ইরানকে দ্রুত নতজানু করার যে আশা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযানে এগিয়েছিল, সেই হিসাব এখন অনেকটাই জটিল হয়ে পড়েছে। ইরানের শাসনব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অবস্থানে টানা ৪০ দিনের বোমাবর্ষণ এবং কঠোর সামরিক চাপ—সবকিছুর পরও তেহরান আত্মসমর্পণ করেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে ইরান যখন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে এবং জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলছে, তখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠছে।
এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি শান্তির নিশ্চয়তা নয়। বরং এটি এমন এক বিরতি, যার নিচে লুকিয়ে আছে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি আবার মাথা তুলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে আসছে, আর সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক সংকট নয়; এটি এখন রাজনৈতিক বেঁচে থাকার লড়াইও।
এই বাস্তবতায় সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি পথের ঝুঁকি আলাদা, ফলাফল আলাদা, আর বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাবও ভিন্ন।
প্রথম সম্ভাবনা: যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমঝোতায় রূপ নেয়
সবচেয়ে আশাবাদী সম্ভাবনা হলো, চলমান যুদ্ধবিরতি ধীরে ধীরে সফল আলোচনার পথ খুলে দেবে। সেই আলোচনার মাধ্যমে সামরিক সংঘাত বন্ধ হবে এবং হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কিছু চাপ প্রয়োগের সুযোগ আছে। কারণ ইরানি বন্দরগুলোতে যাওয়া-আসা করা নৌযান আটকে দেওয়ার কারণে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই চাপ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করছে। ট্রাম্প সম্ভবত আশা করছেন, ইরানের ভেতরে অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী কোনো অংশ সামনে আসবে। উদাহরণ হিসেবে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফের মতো কোনো নেতৃত্ব কঠোরপন্থীদের বোঝাতে পারে যে পরমাণু প্রশ্নে সমঝোতা করলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার আয় শুরু হতে পারে।
কিন্তু এই দৃশ্যপট বাস্তবে খুব সহজ নয়। কারণ ইরানের শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার অভ্যাস তৈরি করেছে। জনগণের কষ্ট বাড়লেও ক্ষমতাসীনরা দ্রুত নতি স্বীকার করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তার ওপর ট্রাম্পের সামনে নির্বাচন আছে, কিন্তু তেহরানের কঠোরপন্থীদের সামনে এমন কোনো সরাসরি ভোটের চাপ নেই।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ শুধু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন সক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের পরিকল্পনা এবং আরও নানা বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে। এই প্রতিটি বিষয়ই জটিল। একটি বিষয়েই সমাধান আনতে দীর্ঘ আলোচনা দরকার, আর এখানে একসঙ্গে অনেকগুলো কঠিন প্রশ্ন ঝুলে আছে।
তাই প্রথম সম্ভাবনাটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হলেও, এর বাস্তবায়ন সবচেয়ে কঠিন।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা: যুদ্ধবিরতি থাকবে, কিন্তু সমাধান আসবে না
দ্বিতীয় দৃশ্যপট হলো, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বজায় থাকবে, কিন্তু আলোচনা মাসের পর মাস চলতে থাকবে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না, উত্তেজনাও পুরোপুরি কমবে না। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা এই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।
এটি দেখতে যুদ্ধের চেয়ে কম ভয়াবহ মনে হতে পারে, কিন্তু অর্থনীতির জন্য এই অবস্থা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ অনিশ্চয়তা যত দীর্ঘ হবে, তেল ও জ্বালানির দাম তত বাড়বে। এরই মধ্যে জ্বালানির দাম যুদ্ধের ৪০ দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি দুই দিক থেকে চাপ খাবে। একদিকে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে, পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে। অন্যদিকে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ কমবে, ব্যবসা ধীর হবে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।
এর ফল হতে পারে স্থবির মূল্যস্ফীতি—অর্থাৎ এমন এক অবস্থা, যেখানে অর্থনীতি ধীর হয়ে পড়ে, কিন্তু দাম বাড়তেই থাকে। সাধারণত অর্থনীতি দুর্বল হলে দাম কমার কথা, কিন্তু জ্বালানি সংকট এই স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে দিতে পারে।
তবে এই দ্বিতীয় পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি অস্থির। দুই বা তিন মাসের বেশি এমন অচলাবস্থা চলা কঠিন। শেষ পর্যন্ত হয় কোনো পক্ষ ছাড় দেবে এবং প্রথম সম্ভাবনার দিকে পরিস্থিতি যাবে, নয়তো উত্তেজনা আবার বেড়ে তৃতীয় বা চতুর্থ সম্ভাবনার দিকে এগোবে। সাম্প্রতিক উপসাগরীয় সামরিক সংঘর্ষগুলো দেখিয়ে দিয়েছে, চুক্তিহীন যুদ্ধবিরতি খুবই ভঙ্গুর।
তৃতীয় সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় সামরিক চাপ
তৃতীয় দৃশ্যপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও কঠোর পথে যেতে পারে। সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব ধরনের চাপ ব্যবহার করে তারা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইতে পারে, অথবা শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে।
এই পথে যদি ইরান সত্যিই নতি স্বীকার করে, তাহলে তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে খুলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে সুবিধাজনক ফল হতে পারে। কারণ এতে জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, বাজারের ভয় কমবে এবং তেলের দাম নিচে নামতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধের ফল কখনো পুরোপুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। ইরান যদি এই চাপের পরও টিকে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলে তারা প্রতিশোধ নিতে পারে, আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারে, এবং হরমুজ প্রণালিকে আরও শক্তভাবে নিজেদের কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
তাই তৃতীয় সম্ভাবনাকে একদিকে দ্রুত সমাধানের পথ হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে এটি বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ। সফল হলে বাজার স্বস্তি পাবে; ব্যর্থ হলে বিপর্যয় আরও গভীর হবে।
চতুর্থ সম্ভাবনা: ইরানের পাল্টা আঘাতে বৈশ্বিক বিপর্যয়
সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যপট হলো, ইরান বড় সামরিক চাপের মধ্যেও টিকে থাকবে এবং তার অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌক্ষমতা ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখবে।
এমন হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি, এমনকি তারও ওপরে যেতে পারে। এর অর্থ শুধু জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নয়; এটি ১৯৭০-এর দশকের মতো স্থবির মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক মন্দা এবং শেয়ারবাজারে বড় পতনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে। উন্নত দেশগুলো যেমন চাপে পড়বে, তেমনি আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি করতে পারে। কারণ মূল্যস্ফীতি যখন মানুষের আয়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ে, তখন জনঅসন্তোষ বাড়ে। সরকারগুলো চাপের মুখে পড়ে। বিশ্ববাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়।
বাজার এত শান্ত কেন?
এত বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার শেয়ারবাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রশ্ন হলো, বিনিয়োগকারীরা কি বিপদ বুঝতে পারছেন না?
এর দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা আছে।
প্রথমত, বাজার ধরে নিচ্ছে যে যুদ্ধবিরতি খুব শিগগির স্থায়ী রূপ নেবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করছেন, তেলের দাম কমবে, হরমুজ খুলবে, এবং বড় সংঘাত এড়ানো যাবে।
দ্বিতীয়ত, বাজার মনে করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রনির্ভর বিনিয়োগের প্রবল গতি যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবকে ছাপিয়ে যাবে। প্রযুক্তি খাতের আশাবাদ বাজারকে উপরে টেনে রাখছে।
কিন্তু এই আশাবাদ অতিরিক্ত হতে পারে। যদি বাজার স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ৭৫%-এর বেশি ধরে নেয়, তাহলে সেটি বাস্তবতার তুলনায় বেশি আশাবাদী হিসাব হতে পারে। কারণ তেহরানে কঠোরপন্থীদের প্রভাব এখনো প্রবল, আর তারা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার প্রস্তুতি দেখিয়েছে।
কোন পথ সবচেয়ে সম্ভাব্য?
ট্রাম্প সম্ভবত প্রথম দৃশ্যপট চান—একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির পুনরায় খোলা, এবং নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ কমে আসা। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। ইরানের কঠোরপন্থীরা আপস করতে আগ্রহী নয়। তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘড়ি দ্রুত চলছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, কিন্তু ইরানের ক্ষমতাসীনদের ওপর এমন সরাসরি চাপ নেই।
দ্বিতীয় দৃশ্যপট কিছুদিন চলতে পারে, কিন্তু সেটিও স্থায়ী নয়। অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, বিশ্ব অর্থনীতি তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৃতীয় দৃশ্যপট সফল হলে দ্রুত সমাধান আনতে পারে, কিন্তু ব্যর্থ হলে চতুর্থ দৃশ্যপটের দরজা খুলে যাবে। আর চতুর্থ দৃশ্যপট হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ ধাক্কা খাবে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে ভালো ফল হবে যদি হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে যায় এবং ইরান আর সেটিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। এই অর্থে তৃতীয় দৃশ্যপটের সফল সংস্করণ বাজারের জন্য সবচেয়ে ভালো হতে পারে।
দ্বিতীয় সেরা ফল হতে পারে প্রথম দৃশ্যপট—অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে প্রণালি খোলা। তবে এতে একটি স্থায়ী ঝুঁকি থেকে যাবে। কারণ ইরান ভবিষ্যতে আবার হরমুজ বন্ধ করার হুমকি দিতে পারে। ফলে যুদ্ধের আগের তুলনায় তেলের দামে স্থায়ীভাবে ১৫–২০% ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত থাকতে পারে।
বর্তমান অচলাবস্থা, অর্থাৎ দ্বিতীয় দৃশ্যপট, তার চেয়েও খারাপ। কারণ প্রতিটি মাস বিশ্ব প্রবৃদ্ধিকে নিচে ঠেলে দেবে এবং মূল্যস্ফীতিকে ওপরে তুলবে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো চতুর্থ দৃশ্যপট, যেখানে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং তেল ২০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরে চলে যায়।
ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাত নয়; এটি জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, শেয়ারবাজার, ভূরাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল মিলনস্থল। যুদ্ধবিরতি আপাত স্বস্তি দিলেও, মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত।
এই সংকটের আসল প্রশ্ন হলো—কে আগে ছাড় দেবে? যুক্তরাষ্ট্র, যার সামনে নির্বাচন ও অর্থনৈতিক চাপ? নাকি ইরান, যার হাতে হরমুজ প্রণালির মতো শক্তিশালী চাপের অস্ত্র আছে?
বাজার এখনো আশাবাদী। কিন্তু যদি সেই আশাবাদ ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে ধাক্কা শুধু কয়েকটি দেশের ওপর পড়বে না; পুরো বিশ্ব অর্থনীতি তার মূল্য দেবে।

