মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টেড টার্নার আর নেই। ৮৭ বছর বয়সে বুধবার (৬ মে) তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত সিএনএন-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
জীবনের শেষ সময়ে তিনি জটিল স্নায়বিক রোগ লিউই বডি ডিমেনশিয়া-তে ভুগছিলেন। ২০১৮ সালেই তিনি নিজেই এই অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করেছেন।
টার্নারের জীবনযাত্রা ছিল এক অনন্য উদাহরণ। বাবার ছোট একটি বিলবোর্ড ব্যবসা থেকে তার যাত্রা শুরু হলেও, তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেক বড়। ১৯৭০-এর দশকে একটি টেলিভিশন স্টেশন কিনে তিনি সম্প্রচার জগতে প্রবেশ করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন।
তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৮০ সালে, যখন তিনি চালু করেন বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল সিএনএন। এই উদ্যোগ সংবাদ পরিবেশনায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। এর আগে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক সংবাদ প্রচারের ধারা থাকলেও, তার হাত ধরে সংবাদ হয়ে ওঠে সারাক্ষণের বিষয়।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই চ্যানেল বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি পায়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরাসরি খবর দেখার সুযোগ তখন মানুষের কাছে ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা।
১৯৯৬ সালে তার গড়া টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেম একীভূত হয় টাইম ওয়ার্নার-এর সঙ্গে। তবে পরবর্তীতে কর্পোরেট কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। তবুও তার তৈরি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আধুনিক সংবাদমাধ্যম আজ এতদূর এগিয়েছে।
টার্নার শুধু একজন উদ্যোক্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ। সংবাদকে তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলেছিলেন। বর্তমান দ্রুতগতির সংবাদ পরিবেশনার যে ধারা, তার পেছনে টার্নারের অবদান অনস্বীকার্য।
তার মৃত্যু শুধু একজন মানুষের বিদায় নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তি। সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে তার নাম সবসময়ই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

