Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, মে 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইসরায়েল থেকে ন্যাটো—শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রে বিশ্বকে তুরস্কের বজ্রবার্তা
    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েল থেকে ন্যাটো—শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রে বিশ্বকে তুরস্কের বজ্রবার্তা

    নিউজ ডেস্কমে 9, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    তুরস্ক আবারও বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে নিজেদের তৈরি প্রথম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। তুর্কি ভাষায় ‘ইলদিরিমহান’ শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ বা বজ্র। নামটির মধ্যেই যেন আঙ্কারার রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তার ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে—তুরস্ক আর শুধু আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে থাকতে চায় না; তারা এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হতে চায়, যার সামরিক সক্ষমতা দূরবর্তী ভূরাজনৈতিক পরিসরেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

    গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুল এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করা হয়। এটি তৈরি করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। এখনো এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি, সফল উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তবু এই প্রদর্শনকে সাধারণ সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ, এর ভেতরে আছে তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক স্বনির্ভরতা, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিস্তার, ন্যাটো রাজনীতির হিসাব, ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা বাস্তবতার জটিল সমীকরণ।

    তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৬,০০০ কিলোমিটার বা ৩,৭২৮ মাইল। ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫,৫০০ কিলোমিটার বা প্রায় ৩,৪১৮ মাইলের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ধরা হয়। সে হিসাবে ইলদিরিমহান শুধু একটি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র নয়; এটি তুরস্ককে এমন এক সামরিক সক্ষমতার স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রতীক, যেখানে এত দিন হাতে গোনা কয়েকটি দেশই অবস্থান করত।

    তুরস্ক থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ গতি শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি, অর্থাৎ ম্যাক ২৫। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি হিসেবে থাকবে লিকুইড নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩,০০০ কেজি ওজনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারবে। এসব তথ্যই দেখায়, তুরস্ক শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না; তারা কৌশলগত দূরপাল্লার সক্ষমতার ক্ষেত্রেও নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছে।

    তবে প্রশ্ন হলো, তুরস্কের এখনই এমন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন কেন? দেশটি কি সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে? নাকি এটি মূলত প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, তুরস্কের জন্য এই মুহূর্তে ক্ষেপণাস্ত্রটির সরাসরি সামরিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘জার্মান মার্শাল ফান্ড’-এর আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারসিকলির মূল্যায়নও এমনই। তাঁর মতে, তুরস্কের সামনে এমন কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই, যার জন্য এখনই আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র অপরিহার্য। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করার সক্ষমতা আঙ্কারাকে সামরিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

    এখানেই ইলদিরিমহানের আসল গুরুত্ব। এটি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র নয়; এটি প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শন। একটি দেশ যখন দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা, ইঞ্জিন, জ্বালানি, বহনক্ষমতা ও গতিসীমা নিয়ে কাজ করে, তখন সেই একই প্রযুক্তিগত ভিত্তি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। ইস্তাম্বুলভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বুরাক ইলদিরিম মনে করেন, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তুরস্কের বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচিকেও এগিয়ে নিতে পারে। বিশেষ করে নিজস্ব রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইট পাঠানোর বাণিজ্যিক প্রকল্প ‘ডেল্টা-ভি’র জন্য এ ধরনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    তবে বাস্তবতা হলো, ইলদিরিমহান এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের উপযোগী সামরিক ব্যবস্থা নয়। সাহা ২০২৬ প্রদর্শনীতে যা দেখানো হয়েছে, তা মূলত একটি প্রাথমিক নমুনা। এর সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা এখনো হয়নি। কারিগরি তথ্যও সীমিত। এমনকি সম্ভাব্য পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে যে সোমালিয়ার ঘাঁটির কথা আলোচনায় এসেছে, সেটিও এখনো প্রস্তুত নয়। তাই এটিকে আজকের দিনে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যৎ সামরিক আকাঙ্ক্ষার ঘোষণাপত্র হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত।

    তবু এই ঘোষণার রাজনৈতিক মূল্য অনেক বড়। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতি থাকলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা থামেনি। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল লেবানন ও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের বাইরে রাখা যায় না।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক। তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ নেই, কিন্তু তাদের কৌশলগত স্বার্থ ক্রমেই বিপরীতমুখী হয়ে উঠছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট তুরস্ককে ইসরায়েলের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি তুরস্ককে ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তেহরান ও আঙ্কারার শত্রুতার বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

    এ ধরনের বক্তব্য তুরস্কের নিরাপত্তা ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা যায়। তুরস্ক গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও আঙ্কারা সরব। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। গত মাসে ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে রক্তক্ষয়ী গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে ইলদিরিমহানকে শুধু ইসরায়েল-কেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আলী বাকিরের মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার অংশ। এর পেছনে আছে বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য। অর্থাৎ তুরস্ক এমন এক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে তাকে অন্য দেশের অনুমতি, প্রযুক্তি বা অস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

    এই নীতির শিকড় অনেক পুরোনো। ১৯৮৫ সালে ‘প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন ও সহায়তা প্রশাসন কার্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তুরস্ক প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার পথে আনুষ্ঠানিকভাবে এগোতে শুরু করে। প্রথমদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর বেশি জোর থাকলেও বিদেশি অস্ত্র ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ তুরস্ককে নিজস্ব উৎপাদনের দিকে ঠেলে দেয়। ২০১০ সালের পর থেকে দেশটি দেশীয় নকশায় উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে বিশেষ মনোযোগ দেয়। এর ফলেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।

    আজ তুরস্ক শুধু নিজস্ব সেনাবাহিনীর জন্য সরঞ্জাম তৈরি করছে না, বিশ্ববাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বৃহত্তম। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের রপ্তানি রেকর্ড ১০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন বা ১,০০৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তুরস্কের তৈরি ‘বায়রাক্তার টিবি২’ ড্রোন এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তুরস্কের অস্ত্রের প্রধান ক্রেতা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও কাতার। এ ড্রোন বাংলাদেশ, ইউক্রেন, ইরাক, কেনিয়া, জাপানসহ অন্তত ৩১টি দেশে রপ্তানি হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইলদিরিমহান তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পর এবার আঙ্কারা দেখাতে চাইছে, তারা কৌশলগত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে নেই। এটি তুরস্কের জন্য শুধু সামরিক সক্ষমতার ঘোষণা নয়; এটি আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে নিজের মর্যাদা বাড়ানোরও একটি উপায়।

    ন্যাটো রাজনীতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ সম্মেলনে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তুরস্ক সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ন্যাটোর দক্ষিণ সীমান্তে তুরস্কের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগ রক্ষায় তুর্কি প্রণালিগুলোর ভূমিকা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ফলে শক্তিশালী তুরস্ক মানে ন্যাটোর দক্ষিণ প্রান্তে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অবস্থান।

    কিন্তু একই সঙ্গে তুরস্কের অবস্থান জটিল। দেশটি ন্যাটোর সদস্য হলেও সব সময় পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে এক সুরে চলে না। সিরিয়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, ইরাক, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে তুরস্ক অনেক সময় নিজস্ব অবস্থান নিয়েছে। এ কারণেই আঙ্কারা বুঝতে পেরেছে, শুধু জোটের নিরাপত্তা আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা সক্ষমতা গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

    গত মার্চে তুরস্ক জানিয়েছিল, ৪ ও ৯ মার্চ তাদের দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। তেহরান এ হামলার কথা অস্বীকার করে ইঙ্গিত দেয়, এটি ইসরায়েলের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে। এই ঘটনাও আঙ্কারাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের আগুন সরাসরি তুরস্কের ভূখণ্ডে না লাগলেও তার ছায়া তুরস্কের আকাশসীমা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব নিরাপত্তার হিসাব বদলে দিয়েছে বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এসব যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তুরস্কের নিরাপত্তা নীতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ তুরস্ক এখন শুধু বর্তমান হুমকি দেখছে না; ভবিষ্যতের যুদ্ধ, প্রযুক্তি, জোট এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনও হিসাব করছে।

    সব মিলিয়ে ইলদিরিমহানকে তিনভাবে দেখা যায়। প্রথমত, এটি তুরস্কের প্রযুক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। দ্বিতীয়ত, এটি আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা। তৃতীয়ত, এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুরস্কের নতুন পরিচয় নির্মাণের অংশ। আঙ্কারা বলতে চাইছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা আর শুধু সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; তারা দূরপাল্লার শক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বৈশ্বিক বাজারেও নিজের জায়গা দাবি করছে।

    তবে সতর্কতাও জরুরি। প্রোটোটাইপ আর কার্যকর অস্ত্রব্যবস্থা এক জিনিস নয়। সফল পরীক্ষা, নির্ভরযোগ্য উৎপাদন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—সবকিছু মিলেই একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প বাস্তব শক্তিতে পরিণত হয়। ইলদিরিমহান এখনো সেই পথের শুরুতে। কিন্তু রাজনৈতিক ভাষায় কখনো কখনো শুরুটিই সবচেয়ে বড় বার্তা দেয়।

    তুরস্কের বার্তাও তাই স্পষ্ট: তারা এমন এক রাষ্ট্র হতে চায়, যাকে শুধু আঞ্চলিক খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বৈশ্বিক কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ‘ইলদিরিমহান’ হয়তো এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়, কিন্তু এর প্রদর্শন আঙ্কারার আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ভাবনার শক্তিশালী প্রকাশ।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    গণমাধ্যম কীভাবে গ্রিনস দলের ইহুদি নেতার বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষকে ব্যবহার করেছিল

    মে 9, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ‌‘বাংলার জনগণকে প্রণাম’—শুভেন্দুর শপথ অনুষ্ঠানে মাথা নত করলেন মোদি

    মে 9, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    মে 9, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.