শেয়ারবাজারের কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড নতুন খাতে কার্যক্রম বাড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর শর্তের মুখে পড়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজের অনুমতি পেতে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ঘাটতি থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত তা পূরণের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন আয় উৎস তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাস্টডিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। তবে সংশোধিত বিধিমালার আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ না হওয়ায় আবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে শর্ত পূরণ করে পুনরায় আবেদন করার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেতে নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক। প্রতিষ্ঠানটি মূলধনের একটি বড় শর্ত পূরণ করলেও অন্যান্য প্রশাসনিক, আর্থিক ও কাঠামোগত শর্তে ঘাটতি রয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য ও কাগজপত্র দ্রুত জমা দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতিগুলো পূরণ করে নতুন করে আবেদন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।
সংশ্লিষ্ট চিঠিতে যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা না দেওয়া, পরিচালকদের ঋণসংক্রান্ত তথ্য ও অঙ্গীকারপত্র অনুপস্থিত থাকা এবং আইনি সঙ্গতিপূর্ণ ঘোষণাপত্র না দেওয়া। এছাড়া কাস্টডিয়ান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
নতুন বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন শুধু সম্পদ সংরক্ষণ নয়, ইউনিটহোল্ডারদের হিসাব পরিচালনা ও ব্যাংক লেনদেন তদারকির দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত। ফলে এই দায়িত্ব পালনে শক্তিশালী কাঠামো ও সক্ষমতা থাকা জরুরি বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে শেয়ারবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। লেনদেন-সংক্রান্ত ফি থেকে আয় কমে গেছে, পাশাপাশি বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি হ্রাস পাওয়ায় আয় আরও কমেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং পরিচালন মুনাফাও নিম্নমুখী।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন খাতে প্রবেশ করে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ ছাড়া তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই দ্রুত ঘাটতি পূরণ করে অনুমোদন নেওয়াই এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

